মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১৯ অপরাহ্ন

পুঁজিবাজারে সরাসরি প্রবেশের পথ খুলছে বেসরকারি কোম্পানির

পুঁজিবাজারে সরাসরি প্রবেশের পথ খুলছে বেসরকারি কোম্পানির

আজকের পুঁজিবাজার:বেসরকারি কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ জন্য স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ডে ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ সরাসরি তালিকাভুক্তির প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো পর্যালোচনা ও প্রণয়নে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

‎বর্তমানে বাংলাদেশে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির জন্য সীমিত। বিএসইসির নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী বেসরকারি কোম্পানির জন্যও পুঁজিবাজারে প্রবেশের বিকল্প পথ তৈরি হতে পারে।

‎বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বিদ্যমান আইনগত কাঠামো পর্যালোচনা করে বিভিন্ন প্রস্তাব দেবে। এরপর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন

‎বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন কমিশনার মো. নাফীজ আল তারিক, নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম, অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবির এবং অতিরিক্ত পরিচালক মো. ইকবাল হোসাইন। কমিটির দাপ্তরিক কার্যক্রমে সহায়তা করবেন সহকারী পরিচালক বিভাস ঘোষ।

‎কমিটিকে আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

‎Space for ads
‎জানা গেছে, নতুন কাঠামোয় ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য কোন কোম্পানিকে যোগ্য বিবেচনা করা হবে, শেয়ারের মূল্য কীভাবে নির্ধারণ হবে, কত শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত হবে, তা নির্ধারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

‎আইপিওর বাইরে বিকল্প পথ

‎ডাইরেক্ট লিস্টিং হলো প্রচলিত আইপিও প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্দিষ্ট শর্তে কোনো কোম্পানির শেয়ার সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করার ব্যবস্থা। এতে কোম্পানির জন্য পুঁজিবাজারে প্রবেশের একটি বিকল্প পথ তৈরি হয়। তবে এ ব্যবস্থায় কোম্পানি নির্বাচন ও শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

‎এদিকে ২০১৫ সালের লিস্টিং রেগুলেশনসের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে প্রণীত বিভিন্ন বিধিমালা ও নীতিমালার সমন্বয়েও কাজ করছে বিএসইসি। এ জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) প্রয়োজনীয় সংশোধনীগুলো একত্র করে সমন্বিত প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে।

‎এর আগে ডিএসই বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ তৈরি, কোম্পানি পরিদর্শনে কমিশনের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া এবং দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ও নিয়ম না মানা কোম্পানিকে ডিলিস্টিংয়ের আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছিল।

‎বিএসইসির নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শক্তিশালী মৌলভিত্তির বেসরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নতুন ব্যবস্থায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কঠোর যোগ্যতা ও প্রকাশসংক্রান্ত শর্ত নির্ধারণই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

?>
© All rights reserved © 2023 ajkerpujibazar.com
Design & Developed by BD IT HOST