শুক্রবার, ১২ Jun ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

পুঁজিবাজার পুনঃরুদ্বারে নতুন সরকারকে যুগান্তকারী ও সাহসী প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ

পুঁজিবাজার পুনঃরুদ্বারে নতুন সরকারকে যুগান্তকারী ও সাহসী প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ

আজকের পুঁজিবাজার:একটি ইমার্জিং ও ফ্রন্টিয়ার মার্কেটের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বা বহিঃর্বিশ্ব থেকে বিপরীতমুখী চলা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে Over Regulation বা অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রণের কুফল ও এই পরিনতি থেকে উত্তরণের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা।

‎বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের ১৫ বছরের দূর্বিও্বায়ন ও লুটপাটের সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ইউনুস সরকারের বিতর্কীত অন্তঃবর্তীকালীন সরকারের সীমাহীন অর্থনৈতিক ব্যার্থতায় এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনিশ্চয়তায় গত ০১ বছরে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে নীট ২৭০ কোটি টাকা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বিনিয়োগকারী এবং বাজারবিশ্লেষকরা মনে করেন, গত কয়েক বছরে বাজারে চরম অস্থিরতা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার প্রধান কারণ হলো বাজারে মৌলভিত্তি সম্পন্ন ভাল শেয়ারের অভাব। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE) বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে খারাপ পারফর্ম করা বাজারের তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বাজার যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহের অযাচিত ও সমন্বয়হীন মনোভাব এবং কর্মকান্ডবিহীনভাবে চলে এবং মানসম্পন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীগুলোর সরকারের হাতে থাকা শেয়ার গুলো দ্রুত বাজারে ছেড়ে দেয় তাহলে বিদেশী তহবিলগুলো বাংলাদেশে হুমড়ি খেয়ে পড়বে। সারা পৃথিবীতে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ” ইমার্জিং ও ফ্রন্টিয়ার” মার্কেটের দিকে ঝুঁকছেন, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে।
আপনার সরকারের “হানিমুন পিরিয়ড” ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে, এখন সমগ্র দেশের আর্থিক অব্যবস্থাপনা পুনঃরুদ্ধারে ১ মিনিট সময়ও নষ্ট না করে পদ্মাসেতু, মেট্রোরেলসহ সরকারী বিভিন্ন লাভজনক কোম্পানী অতি দ্রুত বাজারে তালিকাভুক্ত করে বিদেশী বিনিয়োগকারী ও দেশীয় বড় বিনিয়োগকারীদের স্বাভাবিকভাবে বিনিয়োগের পরিবেশ অতি দ্রুত তৈরি করবেন বলে আশা করছি। কেবলমাত্র ৬-৭টি পদক্ষেপ আন্তরিকতা এবং সত্যিকার অর্থে দেশপ্রেমের সাথে বাস্তবায়ন করলে এই বাজার সারা বছরের জন্য একটি “টেকসই” “গতিশীল” ও যুগোপোযোগী বাজারে পরিণত হবে-ইন-শা-আল্লাহ। এর মধ্যে ২-৩টি পদক্ষেপ সরকারের নির্বাহী আদেশে এবং জাতীয় সংসদ থেকে আইন পাশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার প্রয়োজন পরবে, বাকি কাজগুলো BSEC সহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা সমূহের পক্ষে করা সম্ভব।

নবগঠিত সরকারের প্রতি বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের  সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাগুলো নিম্নরুপ:

প্রস্তাবনাসমূহ:

১. সংসদে প্রথম অধিবেশনে অথবা দ্বিতীয় অধিবেশনে আইন পাশ করে অথবা সরকারের নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসারত মাল্টিন্যাশনাল ও দেশিও লাভজনক কোম্পানী এই দেশে ব্যবসায়ীক কার্যক্রম চালাতে হলে অবশ্যই অবশ্যই পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত থাকতে হবে। অন্যথায় এই দেশে ব্যবসায়ীক কার্যক্রম চালাতে পারবেন না। অনতিবিলম্বে এই আইন সাহসীকতার সাথে সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে এই আইন অনেক আগে থেকেই প্রচলিত রয়েছে। অত্যন্ত দুঃখজনক পাকিস্থানের মত ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশে মেটলাইফের মত কোম্পানী তালিকাভুক্ত থাকলেও বাংলাদেশের কোনো সরকার মেটলাইফ কে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার নৈতিক সাহস বা পেশাদারিত্ব দেখাতে পারে নাই।

২. আপনাদের সরকারের মেয়াদকালে পুঁজিবাজারে কখনও কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা কোনো বিনিয়োগকারী সংগঠন থেকে এককালীন দশ হাজার কোটি, বিশ হাজার কোটি টাকার আবেদন করা দয়া-ভিক্ষার ফান্ড কখনও অনুমোদন করবেন না। শেয়ারবাজারকে তার নিজস্ব শক্তিমত্তা, ইতিবাচক বিনিয়োগ কাঠামো এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক পলিসি সাপোর্ট প্রদান করবেন। যে কোনো দেশের পুঁজিবাজার সেই দেশের Highly Dignified আর্থিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো-তাই এখানে দয়া-ভিক্ষার ফান্ড পুঁজিবাজারকে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা বহন করে বরং বিদেশী বিনিয়োগকারী এবং দেশীয় মেধাসম্পন্ন বড় বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারের আইনের মধ্যে থেকে যথাসময়ে প্রবেশ এবং বহিগমন (In-out) সহজলভ্য করতে হবে। যাতে অপ্রয়োজনীয় রোড-শো বা অনুনয় বিনয় করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে দফায় দফায় অর্থ মন্ত্রণালয়কে বা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বৈঠক করতে না হয়।

৩. প্রত্যেক বছরের জুন মাসে বাজেট অধিবেশনের সময় সকল সংসদ সদস্যের সম্পদের হিসাব বিবরনী মহান জাতীয় সংসদে প্রদান করতে হবে। এতে দেশের আপামর জনগন ও বিনিয়োগকারীরা সকল সংসদ সদস্যের প্রতি বছরের সম্পদের হ্রাস বৃদ্ধি ও ক্ষেত্র বিশেষে লুটপাট ও দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র চিহ্নিত করতে পারবে।

৪. কোনো কোম্পানী ৫০ কোটি টাকা Capital Raise করতে হলে কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকে Loan Apply করতে পারবে না। তাকে Automatically পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে Capital Raise করতে হবে। এতে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে এবং পুঁজিবাজারে ভাল ভাল কোম্পানী তালিকাভুক্ত হয়ে বাজারকে টেকসই ও গতিশীল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করবে।

‎৫. বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ও BSEC এর চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও প্রটোকল সমান-সমান করার যৌক্তিক দাবি উত্থাপন করছি। এতে দেশের পুরো আর্থিক খাত এবং পুঁজিবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের অযাচিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত মুরুব্বিয়ানা দূর হয়ে সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে।। উল্লেখ থাকে যে, BSEC এর চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা আপীল বিভাগের বিচারপতির সমতুল্য এবং কমিশনারদের পদমর্যাদা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতির সমতুল্য করার প্রস্তাব করছি।

৬. পুঁজিবাজারে দৈনিক শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে Same Share Netting (একই শেয়ার দিয়ে আর্থিক সমন্বয়) সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ করতে হবে। এই নিয়ম ইতিপূর্বে ২০০৭ সালে বাজারে ইতিবাচকভাবে প্রচলিত ছিল। এতে বাজারে প্রতিটি কোম্পানীর শেয়ারের একটি শক্তিশালী ও টেকসই মূল্যস্তর বজায় থাকবে। ব্রোকারেজ হাউজ ও স্টক এক্সচেন্দ্র গুলোর অনৈতিক কমিশন প্রাপ্তির লোভের কারণে এই নিয়ম পরিপালন করা সম্ভব হচ্ছে না।
‎৭. আগামী ৩ মাসের মধ্যে “পদ্মাবহুমুখী সেতু” পুঁজিবাজারে Direct Listing করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সেতু বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় গুলোর বিন্দুমাত্র শৈথিল্যতা বরদাশত করা হবে না। অন্যথায় বিনিয়োগকারীদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একটি পদ্মাসেতুর তালিকাভুক্তির টাকা দিয়ে আরিচা-পাটুরিয়া দিয়ে আরো একটি পদ্মাসেতু অনায়াসে করা সম্ভব। একটি মেট্রোরেলের টাকা দিয়ে হেমায়েতপুর-শ্যামলী-ভাটারা এমনকি চট্টগ্রামে একটি মেট্রোরেল স্থাপনের সাহসী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ দেখাতে হবে।

‎৮. Nestle Bangladesh ইউনিলিভার, মেট্রোরেল অন্যান্য মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী, মেটলাইফ, Opsonin, SKF (ঔষধ কোম্পানী) Nasir Flote Glass, PHP Glass Factory সরকারি কর্নফুলী সারকারখানা (কাফকো) কর্নফুলী গ্যাসফিল্ড কোম্পানী, সিলেট গ্যাসফিল্ড কোম্পানী বাজারে অবিলম্বে তালিকাভূক্ত করলে বাংলাদেশের

পুঁজিবাজার অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী গুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বাহীরে থাকতে পরে না।

‎৯. বিগত ১৭ বছরে আজকের দিন পর্যন্ত রাষ্ট্রের আর্থিক কাঠামোর Policy making গুরুত্বপূর্ণা স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতে উল্লেখ করার মত Financially Integrated Dignified Person” একজনও দায়িত্বে আসে নাই, যিনি দেশের অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর প্রতিস্থাপন করবেন। আগামী দিনগুলোতে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও মতামতের ভিত্তিতে একটি মেধাভিত্তিক ও Professional সার্চ কমিটির মাধ্যমে (নির্বাচন কমিশনের আদলে) BSEC চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ প্রদান করতে হবে।

১০. বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে BSEC তে যে সব আইনকানুন বা Safe Guard আছে: পর্যাপ্ত পরিমানে রয়েছে, শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে যখন-তখন অপ্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারী না করে বাজারের প্রচলিত আইনগুলোকেই সঠিকভাবে পরিপালন করলে এই বাজারকে আপনি শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান এমনকি ভারতের পুঁজিবাজারের সাথে প্রতিযোগীতায় নামতে পারবেন।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো সত্যিকার দেশপ্রেমের সাথে বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার অচিরেই বিশ্বমানের বাজারে রূপান্তরিত হবে। ইন-শাআল্লাহ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2023 ajkerpujibazar.com
Design & Developed by BD IT HOST