সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন

পুঁজিবাজারের জন্য বড় সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী

পুঁজিবাজারের জন্য বড় সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী

আজকের পুঁজিবাজার:দেশের পুঁজিবাজারকে আরও গভীর, গতিশীল ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর সংশোধনী প্রস্তাব ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, করপোরেট সুশাসন এবং বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‎সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎অর্থমন্ত্রীর ঘোষিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কর ব্যবধান আরও বাড়ানো। এখন থেকে যে কোনো পরিমাণ শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হলেই সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ২ দশমিক ৫ শতাংশ কর ছাড় পাবে। এর পাশাপাশি, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), ডাইরেক্ট লিস্টিং, রাইট ইস্যু অথবা রিপিট পাবলিক অফারের মাধ্যমে কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার বাজারে অফলোড করলে আরও ২ দশমিক ৫ শতাংশ কর ছাড় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

‎শুধু তাই নয়, তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত উভয় ধরনের কোম্পানি যদি তাদের সব ধরনের লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করে, তাহলে অতিরিক্ত ২ দশমিক ৫ শতাংশ কর সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে কোনো কোম্পানি যদি শেয়ারবাজারে ১০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার অফলোডের পাশাপাশি সম্পূর্ণ ক্যাশলেস লেনদেন নিশ্চিত করে, তবে তাদের করহার অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির তুলনায় মোট ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারমুখী করার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতেও সহায়ক হবে।

‎বাজেটে জিরোকুপন বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো অর্থায়ন ও বিকল্প বিনিয়োগ পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে বন্ডবাজারে নতুন বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

<span;>‎এছাড়া, মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর রেয়াত পাওয়ার জন্য এতদিন যে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগ সীমা ছিল, তা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এই সীমা প্রত্যাহার প্রাতিষ্ঠানিক ও উচ্চমূল্যের বিনিয়োগকারীদের মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে।

‎লভ্যাংশ কর কমায় বাড়বে বিনিয়োগের আকর্ষণ

‎বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষাপটে কোম্পানি করদাতাদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর করহার কমিয়ে ২০ শতাংশ এবং ব্যক্তি করদাতাদের ক্ষেত্রে তা ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, লভ্যাংশের ওপর কর কমানো হলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা বেশি উপকৃত হবেন।

‎বাজারে ভালো কোম্পানি আনতেই মূল লক্ষ্য

‎অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাজার সূচকের ঊর্ধ্বগতির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে এবং এ খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

‎বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘোষিত প্রণোদনাগুলো বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির আগমন বাড়বে, বাজার মূলধন সম্প্রসারিত হবে এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স শক্তিশালী হবে। তবে শুধুমাত্র কর-সুবিধা নয়, বাজারে সুশাসন, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

‎সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন পর বাজেটে পুঁজিবাজারকে কেন্দ্র করে এত বিস্তৃত কর-সুবিধা ঘোষণা নিঃসন্দেহে বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2023 ajkerpujibazar.com
Design & Developed by BD IT HOST