শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন

এক্সেল সুজের কাছে শেয়ারহোল্ডারদের জিজ্ঞাসা

এক্সেল সুজের কাছে শেয়ারহোল্ডারদের জিজ্ঞাসা

সন্মানিত চেয়ারম্যান
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
কোম্পানি সচিব ।
এক্সেল সুজ লিমিটেড।

দৃষ্টি আকর্ষণ :- এজিএম এ BSEC এর সার্কুলার ‘২০১৮ এর সেকশন ৫(৩) প্রতিপালনে স্বাধীন বা স্বতন্ত্র পরিচালক বিশেষত অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবদুল হক এর ভূমিকা ও জবাবদিহিতা।

নোটিশ :- কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর ৮৩(৮) ধারা অনুযায়ী পূর্বাহ্নে নোটিশ এর মাধ্যমে ৩৫,৩৬ ও ৩৭ তম এজিএম এ সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডার হিসেবে আমার প্রশ্নসমূহের উত্তর ও ব্যাখ্যা প্রদান।

প্রিয় মহোদয় ,
১) এক্সেল সুজ লিমিটেডের ২০০৩-০৪ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত ২১ বছরের টার্ণওভার ও অন্যান্য হিসাবসমূহ পর্যালোচনা করে দেখা যায় :-
ক) টার্ণওভার :- ( কোটি টাকা)
অর্থবছর। (কোটি টাকা)
২০০৩-০৪—-২৭.০৯
২০০৪-০৫—- ২৮.৭৮
২০০৫-০৬—- ২৮.৭২
২০০৬-০৭—- ২২.৪৭
২০০৭-০৮—- ৪২.০৩
২০০৮-০৯—- ৩৮.১৩
২০০৯-১০—- ৪১.০৭

২০১০-১১—- ৬১.৯৭
২০১১-১২—- ৫৪.০২
২০১২-১৩—- ৩৯.৫১
২০১৩-১৪—- ৭৮.৩৬
২০১৪-১৫—- ২০.৭০
২০১৫-১৬—- ৯.৪৬ ( ৯ মাস)
২০১৬-১৭—- ১৫.৭২
২০১৭-১৮—- ২৩.১৪
২০১৮-১৯—- ২৬.৬২
২০১৯-২০—- ২৫.৩০

২০২০-২১—- ২৮.২৬
২০২১-২২—–৪৩.০৪
২০২২-২৩—–৭৭.৪৯
২০২৩-২৪—–৯১.৬৮

টার্ণওভার এর ক্ষেত্রে এতো উথান পাথাল উঠানামা সন্দেহভাজন।
তবে তিন বছরে ৬৩.৪৩ কোটি টাকা বা ২২৪.৪২% প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক হলেও এ ব্যাপারে সংখ্যালঘু শেয়ার হোল্ডারদের কাছে ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

খ) নীট মুনাফা :- ( কোটি টাকা)
অর্থবছর। কোটি টাকা
২০০৩-০৪—- (১.১৬)
২০০৪-০৫—- (১.৭৩)
২০০৫-০৬—- (০.৭৮)
২০০৬-০৭—- (০.০৫)
২০০৭-০৮—- ০.২০
২০০৮-০৯—- ০.০৬
২০০৯-১০—- ০.১৯

২০১০-১১—- ০.৩৪
২০১১-১২—- ০.৩৬
২০১২-১৩—- (১.২৬)
২০১৩-১৪—- ২.০৪
২০১৪-১৫—- ১.১৭
২০১৫-১৬—- ( ৯.৪০) ( ৯ মাস)
২০১৬-১৭—- (৩.২৫)
২০১৭-১৮—- ০.৮৪
২০১৮-১৯—- ০.০৬
২০১৯-২০—- (০.০৯)

২০২০-২১—- ০.২৯
২০২১-২২—–০.৯৩
২০২২-২৩—–১.৩৫
২০২৩-২৪—–১.৮১
এখানে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ৯ মাসে (৯.৪০) কোটি টাকা লস।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের (৩.২৫) কোটি টাকা লস।
আবার
২০১৭-১৮ অর্থবছরে কোন যাদুর কাঠির ছোঁয়ায় ০.৮৪ কোটি টাকা প্রফিট।
২০২০-২১ থেকে ২০২৩-২৪ সাল পর্যন্ত ৪.৩৮ কোটি টাকা প্রফিট যা টার্ণওভার এর সাথে সামঞ্জস্যহীন।
এই প্রফিট / লস সন্দেহভাজন। প্রকৃত লোকসান অনেক অনেক বেশী।
এই কাগুজে প্রফিট বা কম লোকসান, একাউন্টিং এর পরিভাষায় এই কৌশল কে বলে :-
“কুকি জার একাউন্টিং “
সাধারণ সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের অজ্ঞতা ,তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতার অভাব ,দূর্বল আইনগত কাঠামো , সুপারভাইজারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর প্রভাবশালী ব্যাক্তি ও গোষ্ঠির অনৈতিক প্রভাব অন্যায় ভাবে প্রয়োগ করে এটা করা হয়ে থাকে
এর ফলে

(১)সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের অর্থের সুরক্ষা ঝুকিপূর্ন হয় ,
(২) সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের আর্থিক ঝুঁকি বাড়তে থাকে

এই অনৈতিক জাগলারিং বাজার দর এর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে , এর ফলে সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে
এ ব্যাপারে আশা করি
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডাইরেক্টর ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জনাব আব্দুল হক BSEC এর নির্দেশনা অনুযায়ী বিস্তারিত তথ্য, ব্যাখ্যা, সিডিউল, এর মাধ্যমে সংখ্যালঘু শেয়ার হোল্ডারদের সন্তোষজনক জবাব ও ব্যাখ্যা দেবেন ,

গ) পুঞ্জীভূত লোকসান :- ( কোটি টাকা)
অর্থবছর। (কোটি টাকা)
২০০৩-০৪—–(২৭.০৯)
২০০৪-০৫—- (২৮.৮৩)
২০০৫-০৬—- (২৯.৬০)
২০০৬-০৭—- (২৯.৬৫)
২০০৭-০৮—- (২৯.৪৬)
২০০৮-০৯—- (২৯.৪০)
২০০৯-১০—- (২৯.২১)

২০১০-১১—- (২৮.৮৭)
২০১১-১২—- (২৮.৫২)
২০১২-১৩—- (২৯.৭৭)
২০১৩-১৪—- (২৭.৭৩)
২০১৪-১৫—- (২৮.৯১)
২০১৫-১৬—- (৪২.৮৯) ( ৯ মাস)
২০১৬-১৭—- (৪৬.১৫)
২০১৭-১৮—- (৪৫.৩০)
২০১৮-১৯—- (৪৫.২৪)
২০১৯-২০—- (৪৫.৩৪)

২০২০-২১—- (৪৫.০৪)
২০২১-২২—–(৪৪.১০)
২০২২-২৩—–(৪২.৭৫)
২০২৩-২৪—–(৪০.৯৩)

উপরের হিসাব সমুহ সঠিক ও বাস্তবসম্মত নয়। প্রকৃতপক্ষে পুঞ্জীভূত লোকসান অনেক অনেক বেশী।
এ ব্যাপারে আশা করি
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডাইরেক্টর ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জনাব আব্দুল হক BSEC এর নির্দেশনা অনুযায়ী বিস্তারিত তথ্য, ব্যাখ্যা, সিডিউল, এর মাধ্যমে সংখ্যালঘু শেয়ার হোল্ডারদের সন্তোষজনক জবাব ও ব্যাখ্যা দেবেন

২) ২৫,২৫,২৭ তম এজিএম ও বার্ষিক প্রতিবেদন এর সাথে ৩৫,৩৬ ৩৭ তম এজিএম এর তুলনামূলকভাবে পর্যালোচনা করে দেখা যায়


২০১১-১২ সালের ২৫ তম এজিএম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, :-
ক) কোম্পানির সেল ১৩% কমে হয়েছে ৫৪ কোটি টাকা। শ্রেনীকৃত হওয়ায় কোম্পানি ব্যাংকের মাধমে এক্সপোর্ট করতে পারেনি বলে অন্য কোম্পানির সাথে চুক্তির মাধ্যমে এই ৫৪ কোটি টাকা রপ্তানি করেছে।
কোন কোম্পানির মাধ্যমে রপ্তানী করা হয়েছে তার নাম এবং চুক্তিপত্র এর কপি ও শর্তাবলী সংখ্যালঘু শেয়ার হোল্ডারদের জানা প্রয়োজন।
খ) অন্য কোম্পানির মাধ্যমে অস্বচ্ছ ও চুক্তিপত্র প্রদর্শন ছাড়া রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্ডার / ওভার ইনভেসিং হয়েছে কিনা বা মানি ল্যান্ডারিং হয়েছে কিনা তা যাচাই বাছাই করা প্রয়োজন।
গ) কস্ট শেয়ারিং বেসিসে কতো টাকার রপ্তানি হয়েছে তার কাগজপত্র, হিসাব সমূহ সহ অন্যান্য শর্তাবলী সংখ্যালঘু শেয়ার হোল্ডারদের জানা প্রয়োজন।
গ ) পৃষ্ঠা -২৩ নোট -১১
শেয়ার হোল্ডিং পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্পন্সর (ডাইরেক্টর্স) শেয়ার ২.৩১% থেকে ৩.৯৯% বেড়ে হয়েছে ৬.৩০ % ।
অন্যদিকে আইসিবির শেয়ার কমেছে ৪.৪২% ।
আইসিবির থোক শেয়ার সাধারণত স্পন্সর ডাইরেক্টর্স দের কেনা কঠিন।
সুতরাং কোন অসচ্ছ প্রক্রিয়ায় কিভাবে কোন ডাইরেক্টর এর নামে এই শেয়ার ক্রয় করা হলো তার বিস্তারিত সংখ্যালঘু শেয়ার হোল্ডারদের জানা প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2023 ajkerpujibazar.com
Design & Developed by BD IT HOST