মঙ্গলবার, ০৯ Jun ২০২৬, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের বাজেট ভাবনা

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের বাজেট ভাবনা

আজকের পুঁজিবাজার:২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে এবং নতুন সরকারের কাছে বাংলাদেশ  পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের সভাপতি জনাব কাজী নজরুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক মো: সাজ্জাদুল হক স্বাক্ষরিত চিঠিতে সময়োপযোগী প্রস্তাবনা ও প্রত্যাশা-

‎বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও একটি ইমার্জিং মার্কেটের অপার সম্ভাবনা থাকা স্বত্তেও আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বিপরীতমুখী চলা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিশেষ করে বিগত ১৬ বছরে দু’টি সরকারের অপ্রয়োজনীয় Over Regulation বা অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রণের কুফল এবং তৎকালীন নীতিনির্ধারকদের (ইউনুস সরকারসহ) সীমহীন অযোগ্যতা, দুর্নীতি, লুটপাট এবং বিশেষকরে পুঁজিবাজারের ব্যাপারে চরমভাবে অনীহা এবং গাফিলতির কারণে পুঁজিবাজার আজ অন্ধকার টানেলের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে। বর্তমান বিএনপি সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী মহোদয় পুঁজিবাজারের ব্যাপারে যেই সর্বোচ্চ ইতিবাচক মনোভাব ও পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন সেই জন্য আপনাদের সরকারের পাশে থেকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিতে এবং আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।

‎আর্থিক খাতে শৃঙ্খলার অভাবে ব্যাংকিং সেক্টর এবং পুঁজিবাজারের ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। পুঁজিবাজেরর তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ২০টি ব্যাংকই “Z” গ্রুপে অবস্থান করছে, অর্থাৎ কমবেশি পুরো ব্যাংকিং সেক্টরই বিনিয়োগ অনুপযোগী এবং ঝুঁকিপূর্ণ। সম্পূর্ণ বাজারের ৩০% কোম্পানী “Z” গ্রুপে অবস্থান করছে। সমষ্টিক অর্থনীতি ইতিহাসের সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। এমতাবস্থায় সরকারকে সাহসী, দুরদর্শী, সময়োপযোগী ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

‎আপনাদের নবগঠিত সরকারের প্রথম বাজেটে (২০২৬-২০২৭) বিনিয়োগকারীদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবণাগুলো নিম্নরূপ:-এস আই

‎প্রস্তাবণাসমূহঃ-

‎১। আগামী ৫ বছর সরকারের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় Policy Consistency বা দীর্ঘমেয়াদী নীতিসহায়তার ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। Development Budget এর আয়তন কোনোভাবেই কমানো যাবে না, Development Budget এর টাকা পুঁজিবাজার যোগান দিবে। সরকারের নতুন Project Financing এর টাকা পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করতে হবে। সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে অথবা ব্যাংকিং সেক্টর থেকে ধার নিয়ে কোনো অবস্থাতেই Project Financing করতে পারবে না।
‎সূত্র‎২ তারিখ সূত্রে । মহান জাতীয় সংসদে আইন পাশ করে অথবা সরকারের নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসারত মাল্টিন্যাশনাল ও দেশিও লাভজনক কোম্পানী এই দেশে ব্যবসায়ীক কার্যক্রম চালাতে হলে অবশ্যই অবশ্যই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত থাকতে হবে। অন্যথায় এই দেশে ব্যবসায়ীক কার্যক্রম চালাতে পারবেন না। অনতিবিলম্বে এই আইন সাহসীকতার সাথে সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে এই আইন অনেক আগে থেকেই প্রচলিত রয়েছে। অত্যন্ত দুঃখজনক পাকিস্ক্রানের মত ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশে মেটলাইফের মত কোম্পানী তালিকাভুক্ত থাকলেও বাংলাদেশের কোনো সরকার মেটলাইফ কে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার নৈতিক সাহস বা পেশাদারিত্ব দেখাতে পারে নাই।
<span;>‎
<span;>‎বার্ষিক টার্নওভার ৫০০ কোটি টাকা এমন সব কোম্পানী বাধ্যতামূলকভাবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার আইন পাশ করতে হবে।
৩। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, Nestle Bangladesh, মেটলাইফ (Alico), Standard Chartered Bank, আবুল খায়ের গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, A.K. Khan Group (চট্টগ্রাম ভিক্তিক), Incepta Pharma, Opsonin, SkF (ঔষধ কোম্পানী), Nasir Flote Glass, PHP Glass Factory, কর্ণফুলী সার কারখানা (কাফকো) কর্ণফুলী গ্যাসফিল্ড, সিলেট গ্যাসফিল্ড কোম্পানী বাজারে অভিলম্বে তালিকাভূক্ত করলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার অনন্য উচ্চতায় পৌছে যাবে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বাহিক্সে থাকতে পারে না।
‎৪। দেশের আর্থিক ক্রান্তিকাল বিবেচনায় বা Doctrine of Necessity আগামী ৫ বছর বিনাপ্রশ্নে অপ্রদর্শিত টাকা বিনা বাধায় পুঁজিাবাজার ও আবাসনখাতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিনিয়োগের প্রস্তাব করছি।
৫। তালিকভূক্ত প্রত্যেক কোম্পানীকে তাঁর আর্থিক বছর শেষে অর্জিত মুনাফার (EPS) কমপক্ষের 60% বিনিয়োগকারীদের মাঝে Dividend আকারে ঘোষণা করতে হবে, অন্যথায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানী পুরো পরিচালনা পর্ষদের ধারণকৃত শেয়ার পরবর্তী ৫ বছরের জন্য BSFC কর্তৃক লকইন করার যৌক্তিক প্রস্তাব করছি। বাকী 40% মুনাফা Retained Earning এবং অন্যান্য খাতে বরাদ্দ করতে হবে।
৬। সরকারী সিকিউরিটাইজেশনের অংশ হিসেবে পদ্মাসেতু, যমুনা সেতু, মেট্রোরেল, চট্টগ্রাম বন্দর, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, স্কয়ার হসপিটাল, আগামী ৬ মাসের মধ্যে তালিকাভুক্ত করার ন্যায্য ও যৌক্তিক প্রস্তাব করছি। একটি পদ্মাসেতুর তালিকাভুক্তির টাকা দিয়ে আরিচা-পাটুরিয়াঘাট দিয়ে আরো একটি পদ্মাসেতু অনায়াসে করা সম্ভব। একটি মেট্রোরেলের টাকা দিয়ে চট্টগ্রামে আরো একটি মেট্রোরেল এমনকি হেমায়েত-গাবতলী-ভাটারা রুটে আরো একটি মেট্রোরেল স্থাপনে সাহসী ও দুরদর্শী পদক্ষেপ দেখাতে হবে। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার যে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজমান যার ফলস্থশ্রুতিতে স্কয়ার হসপিটালের মতো অন্যান্য কর্পোরেট হাসপাতালগুলোর একসচ্ছত্র চিকিৎসা বাণিজ্যের রাশ টানতে অবিলম্বে একটি স্কয়ার হসপিটালের তালিকাভুক্তির টাকা দিয়ে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশালে আরো একটি করে স্কয়ার হসপিটাল করার সাহসী ও বিচক্ষণ পদক্ষেপ দেখাতে হবে।
বাজেট অধিবেশনের পর থেকে আগামী দিনগুলোতে আর কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, বন্ধ বা Liquidation করার কোনো ধরনের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করতে পারবে না। পুঁজিবাজারের Triple Taxation সম্পূর্ণরূপে পরিহার করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর বার্ষিক প্রদেয় করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করছি। ফলে দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে এবং সরকার দিনশেষে পূর্বের তুলনায় বেশী হারে কর প্রাপ্তির সুযোগ তৈরি হবে। পুঁজিবাজারে দৈনিক লেনদেন ৫০০০ কোটি টাকা উন্নীত হলে সরকারের রাজস্ব বর্তমান সময়ের তুলনায় ১০ গুন বৃদ্ধি পাবে।
‎আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো সত্যিকার দেশপ্রেমের সাথে বাস্তাবয়ন করলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার অচিরেই শ্রীলংকা, পাকিস্তান এমনকি ভারতের সাথে ইতিবাচক প্রতিযোগীতায় অবতীর্ণ হয়ে বিশ্বমানের বাজারে রূপান্তরিত হবে। ইন-শা-আল্লাহ।
৩৩ লক্ষ বিনিয়োগকারী ও ব্যাংকের আমানকারীদের পক্ষে

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2023 ajkerpujibazar.com
Design & Developed by BD IT HOST