আজকের পুঁজিবাজার:পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ১১ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।
দাবিতে মার্জিন ঋণে বৈষম্য দূরীকরণ, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তকরণ, তালিকাচ্যুতি ও বাইব্যাক সুরক্ষা, বিনিয়োগকারীদের মতামত গ্রহণ, রিয়েল টাইম মনিটরিং, বিশেষ তহবিল গঠন, মিউচুয়াল ফান্ড সংস্কার, ক্যাটাগরি বৈষম্য বিলোপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা দ্রুত ফিরে আসবে বলে মনে করেন সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।
আজ রবিবার শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের হাতে ১১ দফা সুপারিশ তুলে দেন সংগঠনটির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ নজরুল।
এতে উল্লেখ করা হয়—দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে দেশের শেয়ারবাজার গভীর সংকটে পড়েছে। তবে বর্তমান কমিশনের নেতৃত্বে বাজারে শৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে বাজারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে তাদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সুপারিশের মধ্যে রয়েছে— বর্তমানে প্রস্তাবিত মার্জিন ঋণ নীতিমালায় বিভিন্ন শেয়ারের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ঋণসীমা নির্ধারণের পরিবর্তে সব শেয়ারের ক্ষেত্রে সমান মার্জিন সুবিধা নিশ্চিত করা। আগামী তিন মাসের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইপিওতে সর্বোচ্চ আবেদন সীমা পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং পুনরায় লটারিভিত্তিক বরাদ্দ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ডিএসইর ‘রেড জোনে’ থাকা কোম্পানিগুলোকে তালিকাচ্যুত করার আগে পুনর্গঠনের জন্য অন্তত দুই বছর সময় দিতে হবে। এরপরও তালিকাচ্যুতির প্রয়োজন হলে কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সব শেয়ার বাজারদর বা ইস্যু মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি, সেই দামে কিনে (বাইব্যাক) নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
দাবিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে প্রায় ৮০ শতাংশ বিনিয়োগ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হওয়ায় বাজার-সংক্রান্ত নীতি প্রণয়নে তাদের প্রতিনিধিদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য বছরে অন্তত চারবার বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় সভা আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কারসাজি ও অস্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করতে রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালুরও সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে তারল্য বাড়াতে তিন শতাংশ সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ আইসিবির মাধ্যমে ব্রোকারেজ হাউজ হয়ে ৫ শতাংশ সুদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঋণ হিসেবে বিতরণের কথা বলা হয়েছে।
মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে আরও সক্রিয় করতে প্রতিটি ফান্ডের কমপক্ষে ৮০ শতাংশ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক করা এবং মেয়াদি (ক্লোজড-এন্ড) ফান্ডগুলোর মেয়াদ না বাড়িয়ে সেগুলোকে ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তরের সুপারিশও করেছে সংগঠনটি। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট-২০১৫ কার্যকর বাস্তবায়ন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য শেয়ার বাইব্যাক আইন প্রণয়ন, বর্তমান এ, বি, এন ও জেড ক্যাটাগরি বাতিল করে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু এবং আন্তর্জাতিক মানের ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার বা আর্থিক পরামর্শক সনদ চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে একটি উন্নত, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব শেয়ারবাজার গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে— মনে করে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।
Leave a Reply