সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ বিএসইসির

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ বিএসইসির

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে কমিশনের ১০৩৫তম জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই সভায় শেয়ারবাজারের স্বার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে নতুন ব্রোকার লাইসেন্স প্রদান, বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ এবং বন্ধের মুখে থাকা প্রতিষ্ঠানের সাবসিডিয়ারিগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

৬টি প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে কমোডিটি ডেরিভেটিভস ব্রোকার নিবন্ধন

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই)-এর সুপারিশের ভিত্তিতে এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর আবেদনের প্রেতিক্ষিতে ৬টি স্টক ব্রোকারেজ কোম্পানিকে কমোডিটি ডেরিভেটিভস ব্রোকার হিসেবে নিবন্ধন সনদ দেওয়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি কোম্পানিগুলোকে লেটার অব ইনটেন্ট (LOI) বা অভিপ্রায়পত্র ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—সোহেল সিকিউরিটিজ লিমিটেড, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড, বি রিচ লিমিটেড, পিএইচপি স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড।

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ প্রদান

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ইনভেস্টরস প্রোটেকশন ফান্ডের নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের দাবি নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় চারটি প্রতিষ্ঠানের—বাংকো সিকিউরিটিজ লিমিটেড, তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের—যাচাইকৃত ও অনিষ্পন্ন দাবির বিপরীতে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়ায় থাকা ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকা মোট ১২টি ক্যাপিটাল মার্কেট সাবসিডিয়ারি কোম্পানির বিষয়ে কমিশন নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে:

কার্যক্রম চলমান থাকবে

প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং লিমিটেড, এভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড—এই চারটির নিট সম্পদ পর্যাপ্ত থাকায় এবং মূল্যায়ন সূচকে সন্তোষজনক অবস্থান থাকায় এদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ঘাটতি নিরসনে সময়সীমা বৃদ্ধি

নিট সম্পদ ও আইনি বিধিবিধান পরিপালনে ঘাটতি থাকায় প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেড, পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড, আইএল ক্যাপিটাল লিমিটেড, জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে যাতে তারা দ্রুত ঘাটতিগুলো সংশোধন করতে পারে। এ ছাড়া ফ্যাস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ক্ষেত্রে ইতিপূর্বেই ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোমোঃ আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

?>
© All rights reserved © 2023 ajkerpujibazar.com
Design & Developed by BD IT HOST