শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

৮ লিজিং কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থরক্ষায় গভর্নরকে অনুরোধ বিএসইসির

৮ লিজিং কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থরক্ষায় গভর্নরকে অনুরোধ বিএসইসির

আজকের পুঁজিবাজার:পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন এক দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে অব্যবস্থাপনা ও খেলাপি ঋণে জর্জরিত ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছরের ৩০ নভেম্বর এসব প্রতিষ্ঠান অবসায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যার মধ্যে ৮টিই দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। ব্যাংক খাতে বিনিয়োগ হারিয়ে বিনিয়োগকারীরা যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই আর্থিক খাতের এই বিশাল ধাক্কা সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে আরও বড় ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করলেও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। এই প্রেক্ষাপটে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) হস্তক্ষেপ করেছে। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিএসইসি অনুরোধ জানিয়েছে যেন ৯টি এনবিএফআই অবসায়নের ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। কমিশন মনে করে, প্রতিষ্ঠানের এই পরিণতির জন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নন, বরং পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনার ত্রুটিই দায়ী।

অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স, বিআইএফসি, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। এছাড়া শেয়ারবাজারের বাইরে থাকা আভিভা ফাইন্যান্সও এই তালিকায় রয়েছে। ‘সমন্বিত ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কার্যকর হওয়ার পর এটিই দেশের ইতিহাসে বড় ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রক্রিয়া, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি সম্পদ বিক্রি ও দায় মেটানোর দায়িত্ব নিয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এর আগে ৫টি ব্যাংক একীভূত করার সময় বিনিয়োগকারীদের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার শেয়ারের মূল্য রাতারাতি শূন্য হয়ে গিয়েছিল। এনবিএফআইগুলোর ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার ভয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিএসইসি তাদের চিঠিতে সুনির্দিষ্ট ৫টি দাবি তুলে ধরেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত তথ্য জানানো, সরকারি কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে তাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হিস্যা রাখা এবং শেয়ারের অভিহিত মূল্য বা বাজার মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি, তাকে ন্যূনতম পাওনা হিসেবে বিবেচনা করা। কমিশন আরও জানিয়েছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ না করে এসব প্রতিষ্ঠানকে কোনোভাবেই স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুত করা উচিত হবে না।

এই সংকট নিয়ে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, এতদিন কোম্পানি ও অডিটররা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ভুল তথ্য দিয়ে সম্পদের যে কাল্পনিক পাহাড় দেখিয়েছিল, তার দায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপানো অন্যায়। যেহেতু আইনের মারপ্যাঁচে সাধারণ মানুষের কোনো হাত নেই, তাই সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মানবিক দিক বিবেচনা করে অন্তত আংশিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এসব বন্ধ হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে আছে। পিপলস লিজিংয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ৭২.৯৪ শতাংশ এবং এফএএস ফাইন্যান্সে তা ৭৯.২৫ শতাংশ। এছাড়া প্রিমিয়ার লিজিংয়ে ৫৮.১০ শতাংশ, জিএসপি ফাইন্যান্সে ৫৩.২২ শতাংশ এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৮.৪৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কাছে। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও প্রাইম ফাইন্যান্সেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড় অংকের অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা এখন সম্পূর্ণ বিলীন হওয়ার অপেক্ষায়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2023 ajkerpujibazar.com
Design & Developed by BD IT HOST