নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ২৪ আগস্ট রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত রাকাব স্মল এন্টারপ্রাইজ ক্রেডিট প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরী স্থায়ীকরণের জন্য এক দফা এক দাবিতে শনিবার মানববন্ধন করেছে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী। শনিবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর ম্যাচ ফ্যাক্টরী মোড়ে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন
জেলার রাকাব এসইসিপির শতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা চাকরী স্থায়ীকরণের এক দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কলম বিরতি ঘোষণা করেন। এ সময় ডিপিও-সিপিও-তে সব কাজের তথ্য প্রদান বন্ধ থাকবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়। উল্লেখ্য যে, এই প্রকল্পে বর্তমানে প্রায় ৭০জন কর্মকর্তা- কর্মচারী কর্মরত আছে। প্রকল্পটি অর্থ মন্ত্রনালয়ের অধীনে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এর তত্ত্বাবধানে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজকীয় নরওয়ে সরকারের এককালীন আর্থিক অনুদানে (অফেরতযোগ্য) ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জামানত / জামানত বিহীন ঋণ প্রদানের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫.০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হলেও প্রকল্পের সাফল্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে তা সর্বোচ্চ ২০.০০ (বিশ লক্ষ) টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয় । প্রকল্পটি ৫(পাঁচ) বছর মেয়াদে ২০০৭ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ক্রমে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বর্ধিত করা হয়। সমাপ্ত প্রকল্পের নিয়মানুযায়ী আইএমইডি এর মাধ্যমে তা মূল্যায়ন করা হয় । আইএমইডি এর মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রকল্পের অভাবনীয় সাফল্য দেখে SECP প্রকল্পটিকে রাজস্ব খাতে/ব্যাংকের সাথে একিভূত করে কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করেন। যদিও ২০০৭ সালে রাকাব প্রধান কার্যালয় হতে প্রকল্পটি সমাপ্তির পর ব্যংকের সাথে একিহত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারনে প্রকল্পটি রাজস্ব/ব্যাংক এর সাথে আত্মীকরন না করে রাকাবের একটি সাবসিডিয়ারী কোম্পানী গঠনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন । মন্ত্রণালয় প্রকল্পটিকে কোম্পানী গঠনের অনুমোদন দিলেও বাংলাদেশ ব্যাংক রাকাবের সাবসিডিয়ারী কোম্পানী গঠনের আইনগত এখতিয়ার নেই মর্মে একাধিকবার রাকাবের আবেদন নাকোচ করে দেন। এদিকে প্রকল্পের সাফল্যের কথা চিন্তা করে রাকাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রকল্পের মেয়াদোর্ত্তীণের পরও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
দুর্ভাগ্যক্রমে যারা প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদেরকে রাজস্ব/ব্যাংকের সাথে আত্মীকরন না করে পূর্বের ন্যায় সাকুল্যে বেতন প্রদান করা হচ্ছে এবং প্রকল্পের শুরু থেকে অদ্যবধি একই বেতন ভাতা পাচ্ছে। প্রকল্প সমাপ্তির পরও রাজস্ব কিংবা মূল প্রতিষ্ঠানের সাথে আত্মীকরণ না করে কোন সরকারি প্রকল্প চলমান থাকা চাকুরী বিধানে পড়ে কি-না বিষয়টি বোধগম্য নয়! না-কি ২০০২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পের চাকুরী বলে আমাদের জীবনে এতো বৈষম্য ? অধিকন্তু প্রকল্পকালীন সময়ে প্রকল্পের প্রস্তাবনা অনুযায়ী আমাদের জন্য বরাদ্দ ৫% বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও ৫% পিএফ থাকলেও তা কখনই দেওয়া হয় নাই। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বলা হলে চাকুরী স্থায়ী করা হলে বকেয়াসহ সবকিছু একসাথে দেওয়া হবে বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করা হতো। সময়ে সময়ে সরকার ঘোষিত প্রনোদনা বা আর্থিক বেনিফিট দেওয়ার কথা থাকলেও আমাদেরকে তা দেওয়া হয়না। আমাদের আনেকেরই সরকারী চাকুরীর বয়স প্রায় অবসরের দ্বার প্রান্তে, আমাদের এখনও পর্যন্ত চাকুরী স্থয়ীকরন না করায় পরিবার পরিজন নিয়ে অত্যন্ত হতাশ ও আশাহত অথচ প্রতিবছর আমাদের প্রকল্পের নিজস্ব আয় হতে আমাদের বেতন ভাতাদি এবং প্রকল্পে রাকাব হতে প্রেষণে বদলীকৃত উর্দ্ধতন প্রায় ডজন খানিক কর্মকর্তার বেতন ভাতাদি, বোনাস, অতিরিক্ত বোনাস, পিএফ, গ্রাইচুয়েটি ছাড়াও অন্যান্য বিশেষ ভাতাদি নেওয়ার পরও প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৮-১০ কোটি টাকা আয় করে দেওয়া হয়। অথচ আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরনের জন্য প্রকল্প পরিচালক থেকে শুরু করে রাকাবের এমডি, চেয়ারম্যান ও স্থানীয় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয়কে আমাদের বিষয়টি অবহিত করা হলে কেউ কোন কর্নপাত করেননি। এর আগে তারা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহিদদের আত্নার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। এছাড়া চলমান বন্যায় বন্যায় বন্যার্তদের জন্য তারা ১ দিনের
বেতন প্রদান করার সিদ্ধান্তও জানান তারা।
Leave a Reply