বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন

ইউসিবির আমানত বেড়েছে ১২ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা

ইউসিবির আমানত বেড়েছে ১২ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা

আজকের পুঁজিবাজার:পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলস‘র (ইউসিবি) ২০২৫ সালে আমানত বেড়েছে ১২ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা, যেখানে ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য মাত্রা ছিল ১২ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক খাতের কোম্পানিটির শুধু ডিসেম্বর ২০২৫-এ নিট নতুন আমানত এসেছে ২ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা, যা ইউসিবি’র ৪১ বছরের ইতিহাসে কোনো একক মাসে সর্বোচ্চ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জান গেছে।


‎এদিকে সূত্রটি জানায়, মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করতে রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৭৭৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪৯০ টাকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয় ইউসিবি। ইতিমধ্যে এই অর্থ সংগ্রহে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন সাপেক্ষে গত ২৩ আগস্ট, ২০২৬ তারিখ থেকে ব্যাংকটির রাইট শেয়ারের সাবস্ক্রিপশন শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

‎জানা গেছে, ইউসিবি ১০ (দশ) টাকা অভিহিত মূল্যের মোট ৭৭ কোটি ৫১ লাখ ৮৭ হাজার ৯৪৯টি সাধারণ শেয়ার রাইটস শেয়ার হিসেবে ইস্যুর জন্য আবেদন করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১:২ অনুপাতে—অর্থাৎ প্রতি ২টি বিদ্যমান শেয়ারের বিপরীতে ১টি রাইটস শেয়ার—প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকায় ইস্যু করা হবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকটি মোট ৭৭৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪৯০ টাকা মূলধন সংগ্রহ করবে। রাইট শেয়ারসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারিত ছিল গত ৪ আগস্ট।


‎রাইট শেয়ার কী? কেন কিনবেন?

‎রাইট শেয়ারের ইস্যু মূল্য ১০ টাকা। ইউসিবি’র শেয়ার সম্প্রতি বাজারে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৫০ থেকে ৯ দশমিক ৮০ টাকার মধ্যে। একজন বিনিয়োগকারীর জন্য প্রশ্নটি তাই স্বাভাবিক, যে শেয়ার মিলছে ১০টাকার নিচে, তবে কেন ১০ টাকা দরে রাইট শেয়ার কেনা? তবে রাইট শেয়ারে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত শুধু বর্তমান বাজার দর আর ইস্যু মূল্যের তুলনা করে নেওয়া যায় না। দেখতে হবে, নতুন মূলধন কেন প্রয়োজন, তা কোথায় ব্যবহার হবে, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার কতটা পরিবর্তন হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সেই মূলধন কতটা ব্যবসা ও আয় তৈরিতে সক্ষম হবে। অর্থাৎ প্রশ্নটি শুধু ‘রাইট শেয়ার ১০ টাকা কিনা; এতটুকু না। বরং প্রশ্ন হচ্ছে, ১০ টাকা মূলধন দেওয়ার বিনিময়ে ব্যাংকের ভবিষ্যৎ মূল্য কতটা বাড়তে পারে?’
‎ব্যাংকের মূলধন বাড়ানো জরুরি কেন?
‎ব্যাংকের মূলধনকে অনেকটা তার আর্থিক নিরাপত্তা-কুশন হিসেবে দেখা যায়। ব্যাংকের ঋণ পোর্টফোলিওতে ক্ষতি হলে সেই ক্ষতি শোষণ করার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো মূলধন। একই সঙ্গে ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন লেনদেনের ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত মূলধন গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের বাসেল-৩ কাঠামো অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর ন্যূনতম মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত বা সিআরএআর ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ। এর নিচে নেমে গেলে ব্যাংকের ওপর বিভিন্ন ধরনের নিয়ন্ত্রক সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। ফলে মূলধন বাড়ানো শুধু একটি হিসাবের প্রয়োজন নয়; এটি ব্যাংকের ভবিষ্যৎ ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের সাম্প্রতিক চিত্র এই প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে। ২০২৫ সালের শেষে দেশের ব্যাংক খাতের সামগ্রিক সিআরএআর নেমে যায় ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে। একই সময়ে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। ২০২৬ সালের মার্চে খেলাপি ঋণের হার আরও বেড়ে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে পৌঁছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর জন্য মূলধন পুনর্গঠন এখন কেবল নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের বিষয় নয়; বরং আর্থিক সক্ষমতা পুনর্নির্মাণের অংশ।

‎রাইট শেয়ারের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে স্বাভাবিক আপত্তি এখানেই উঠে। ধরা যাক, একটি ব্যাংক প্রতি শেয়ার ১০ টাকা মূল্যে রাইট শেয়ার ইস্যু করছে। একই সময়ে বাজারে সেই শেয়ার ৯ দশমিক ৫০ টাকা বা ৯ দশমিক ৮০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই একজন বিনিয়োগকারী ভাবতে পারেন, বাজার থেকে কম দামে শেয়ার কেনা সম্ভব হলে বেশি দামে রাইট শেয়ার কেনার প্রয়োজন কী? কিন্তু রাইট শেয়ারকে শুধু বর্তমান বাজার মূল্যের সঙ্গে তুলনা করেও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। কারণ রাইটস ইস্যুর মাধ্যমে ব্যাংকে যে নতুন মূলধন ঢুকবে, সেটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থানকে ভবিষ্যতে কতটা শক্তিশালী করবে, সেটিও হিসাবের অংশ। একটি ব্যাংকের মূলধন বাড়ার অর্থ হতে পারে বেশি ঝুঁকি শোষণের সক্ষমতা, ঋণ প্রবৃদ্ধির সুযোগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনায় বাড়তি সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে আয় বাড়ানোর সুযোগ। সুতরাং বিনিয়োগকারীর জন্য মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত, আজকের শেয়ারের দাম কত, তার পাশাপাশি আগামী কয়েক বছরে ব্যাংকের মৌলিক আর্থিক অবস্থান কোথায় দাঁড়াতে পারে।

‎এখানেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্তটি একটু গভীরভাবে দেখতে হবে। প্রথমত, দেখতে হবে নতুন মূলধন কোথায় যাচ্ছে। মূলধন সংগ্রহ করে শুধু পুরোনো ক্ষতি সামাল দেওয়া হচ্ছে, নাকি ব্যাংকের ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে, এটি গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, দেখতে হবে খেলাপি ঋণ আদায়ের বাস্তব অগ্রগতি। কারণ নতুন মূলধন সংগ্রহের পাশাপাশি পুরোনো ঋণের ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে মূলধনের ওপর আবার চাপ তৈরি হতে পারে। তৃতীয়ত, প্রভিশন ঘাটতি কতটা কমছে, সেটি দেখা প্রয়োজন। খেলাপি ঋণ বাড়লে প্রভিশনের প্রয়োজন বাড়ে এবং তা ব্যাংকের মুনাফা ও মূলধনের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। চতুর্থত, আমানত প্রবৃদ্ধি দেখতে হবে। কারণ আমানত হলো ব্যাংকের ব্যবসার অন্যতম প্রধান তহবিলের উৎস এবং এটি গ্রাহকের আস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। পঞ্চমত, অ্যাডভান্স-ডিপোজিট অনুপাত বা এডিআর কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করতে পারে। সবশেষে দেখতে হবে, মূলধন বাড়ার পর ব্যাংক সেটিকে কতটা কার্যকরভাবে আয়যোগ্য সম্পদে রূপান্তর করতে পারছে। শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ের জন্য পৃথক দল গঠন ও আইনি কার্যক্রমের ফলে ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বার্ষিক ভিত্তিতে ইউসিবি’র ঋণ আদায় ১৭০ শতাংশ বেড়েছে তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে। এক বছরে ইউসিবি’র গ্রাহক সংখ্যা ২২ লাখ থেকে বেড়ে ৩০ লাখে পৌঁছেছে এবং নতুন হিসাব খোলা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ লাখ। নতুন আমানতের ৮৬ শতাংশ এসেছে ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক গ্রাহকদের কাছ থেকে।

‎২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ইউসিবি’র মোট ঋণ পোর্টফোলিও ছিল ৬১ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। এই আকারের একটি ব্যাংকের জন্য পর্যাপ্ত মূলধন শুধু নিয়ন্ত্রক অনুবর্তিতার বিষয় নয়। এটি নির্ধারণ করে ব্যাংকটি ভবিষ্যতে কতটা ঋণ দিতে পারবে এবং কতটা ঝুঁকি নিতে পারবে। ইউসিবির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্যাংকটি বছরে প্রায় ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালনা করে বলে জানা গেছে, যা বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৭ শতাংশ। মূলধন পর্যাপ্ততা দুর্বল থাকলে এর প্রভাব শুধু ব্যাংকের ওপর পড়ে না। আমদানি-রপ্তানি, ট্রেড ফাইন্যান্স, ছোট ও মাঝারি ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সম্পর্কও এর সঙ্গে যুক্ত। তাই মূলধন শক্তিশালী করার অর্থ শুধু ব্যালান্সশিটের একটি সংখ্যা বাড়ানো নয়। এর মাধ্যমে ব্যাংকের ভবিষ্যৎ ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতাও বাড়তে পারে। এই বাস্তবতায় ইউসিবি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে একটি কৌশলগত পুনরুদ্ধার রোডম্যাপ জমা দিয়েছে। পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকটির সিআরএআর বর্তমান ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের শেষে ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে পরিকল্পনায় বলা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রয়েছে ৭৭৫ কোটি টাকার রাইটস শেয়ার ইস্যু, যেখানে প্রতি শেয়ারের মূল্য ১০ টাকা। পাশাপাশি রয়েছে ৮০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড কার্যক্রম এবং ২০২৭ সালে পরিকল্পিত ৭৭৫ কোটি টাকার বিদেশি কৌশলগত ইকুইটি অংশীদারত্ব। অর্থাৎ ব্যাংকটি শুধু একটি উৎসের ওপর নির্ভর না করে টায়ার-১ ও টায়ার-২—উভয় ধরনের মূলধন শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে। এখন বিনিয়োগকারীর প্রশ্ন হলো, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তার অর্থ কী? এর উত্তর নির্ভর করবে মূলধন বৃদ্ধির পর ব্যাংকের সম্পদের মান কতটা উন্নত হয়, খেলাপি ঋণ কতটা কমে, প্রভিশন ঘাটতি কতটা পূরণ হয় এবং নতুন মূলধন থেকে কতটা কার্যকর ব্যবসা তৈরি হয় তার ওপর।


‎একজন বিনিয়োগকারীকে দেখতে হবে ইউসিবি’র বর্তমান মূল্য বনাম ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য মূল্য। দেখতে হবে মূলধন ঘাটতি কতটা, নতুন মূলধন কতটা আসছে, খেলাপি ঋণের প্রবণতা কোন দিকে, আমানত বাড়ছে কি না, ঋণ আদায় হচ্ছে কি না এবং ব্যবস্থাপনা পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছে কি না। একইভাবে, শুধু আমানত বাড়ছে বলেও ধরে নেওয়া যাবে না যে ব্যাংকের সব সমস্যা শেষ। আমানত ব্যাংকের তারল্য ও আস্থার জন্য ইতিবাচক হলেও এটি মূলধনের বিকল্প নয়। বরং বিনিয়োগকারীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে একাধিক সূচকের একই দিকে এগিয়ে যাওয়া। রাইট শেয়ার কেনা বা না কেনার উত্তর কোনো একক সূত্রে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে বাজারদর যখন ইস্যু মূল্যের নিচে থাকে, তখন বিনিয়োগকারীর সতর্ক হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু একটি ব্যাংকের রাইট শেয়ারকে বিচার করতে হলে প্রশ্নটি হওয়া উচিত না শুধু, ১০ টাকার শেয়ার ৯ টাকা ৮০ পয়সায় পাওয়া যাচ্ছে কিনা? বরং নতুন মূলধন আসার পর ব্যাংকটি কি আগের চেয়ে শক্তিশালী, নিরাপদ এবং বেশি আয়ক্ষম হতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে কয়েকটি সংখ্যার মধ্যে: মূলধন পর্যাপ্ততা, খেলাপি ঋণ, প্রভিশন, আমানত, ঋণ আদায়, তারল্য এবং ভবিষ্যৎ আয়ক্ষমতা। বাংলাদেশের ব্যাংক খাত এখন দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যার হিসাব সামনে এনে পুনর্গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কিছু ব্যাংকের জন্য মূলধন সংগ্রহ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ইউসিবির ক্ষেত্রে রাইটস শেয়ার, সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড ও কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ সব মিলিয়ে একটি পুনর্মূলধন পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এখন আসল পরীক্ষা হলো পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং নতুন মূলধন কতটা কার্যকরভাবে ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করে। তাই রাইট শেয়ারের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত শুধু আজকের দামের ভিত্তিতে নয়; বরং ব্যাংকটি আজ কোথায় এবং মূলধন পুনর্গঠনের পর আগামী দুই-তিন বছরে কোথায় যেতে পারে, এই দুই অবস্থানের মধ্যে ব্যবধানটি বুঝে।



Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

?>
© All rights reserved © 2023 ajkerpujibazar.com
Design & Developed by BD IT HOST