বুধবার, ১৭ Jun ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ন

মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডকে বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর করতে আইনি বাধা নেই

মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডকে বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর করতে আইনি বাধা নেই

আজকের পুঁজিবাজার:মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডকে বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর অথবা অবসায়নের পথে থাকা আইনি বাধা দূর হয়েছে। ফান্ডগুলোর রূপান্তরে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্বের স্থগিতাদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে এখন মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের রূপান্তর বা অবসায়নে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না।

‎বুধবার (১৭ জুন) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন। এর আগে কয়েকজন ইউনিটহোল্ডারের দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোর রূপান্তর ও অবসায়ন কার্যক্রমের ওপর দুই মাসের স্থিতাবস্থা জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

‎পরে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আবেদনের পর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে চেম্বার আদালত সেই স্থগিতাদেশ স্থগিত করেন।

‎এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের রূপান্তরের বিষয়ে কমিশন প্রথমে ৯ জুন নির্দেশনা দেয়। পরে আদালতে রিট দায়েরের পর ১১ জুন ট্রাস্টিদের জানানো হয়, রিটকারী ছাড়া অন্য ইউনিটহোল্ডারদের ক্ষেত্রে রূপান্তর কার্যক্রম চলবে। এখন আদালতের স্থিতাবস্থাও উঠে গেছে। ফলে আর কেউ এর বাইরে থাকছেন না। সব মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন। ক্লোজড-এন্ড ফান্ডকে ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর কিংবা অবসায়নের ক্ষেত্রে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।

‎মেয়াদি ফান্ডের রূপান্তরে নতুন বিধিমালায় যা ছিল
‎২০২৫ সালের নভেম্বরে জারি হওয়া মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এ বলা হয়, কোনো মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের গড় বাজারদর যদি গেজেট প্রকাশের ছয় মাসের মধ্যে ক্রয়মূল্য বা ঘোষিত নিট সম্পদমূল্যের (এনএভি) মধ্যে যেটি বেশি, তার তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি কমে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টি বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করবে।

‎ইজিএমে উপস্থিত ভোটদানকারী ইউনিটহোল্ডারদের কমপক্ষে ৭৫ শতাংশের সমর্থন এবং বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে ফান্ডটিকে বেমেয়াদি (ওপেন-এন্ড) ফান্ডে রূপান্তর অথবা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এ বিধান বাস্তবায়নে চলতি বছরের ৭ মে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি।

‎বিএসইসির এ আদেশ জারির পর কয়েকজন ইউনিটহোল্ডার হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। তাদের দাবি ছিল, ২০১৮ সালের সরকারি গেজেটের মাধ্যমে যেসব ক্লোজড-এন্ড ফান্ডের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল, সেগুলোর বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জোরপূর্বক রূপান্তরের উদ্যোগ ইউনিটহোল্ডারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।

‎এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ মে হাইকোর্ট বিএসইসির ৭ মে জারি করা নির্দেশনা এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এর ৬২, ৬৩ ও ৬৪ নম্বর বিধির বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে দুই মাসের জন্য রূপান্তর ও অবসায়ন কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

‎হাইকোর্টের আদেশের পর কয়েকটি ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান তাদের অধীনস্থ কয়েকটি ফান্ডের বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আয়োজনের প্রস্তুতি স্থগিত করে এবং বিষয়টি বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) জানায়।

‎পরে বিএসইসি ১১ জুন ট্রাস্টিদের চিঠি দিয়ে জানায়, হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার সুবিধা শুধু রিটকারী ইউনিটহোল্ডারদের জন্য প্রযোজ্য। অন্য সব ইউনিটহোল্ডারের ক্ষেত্রে ৭ মে জারি করা নির্দেশনা বহাল থাকবে এবং রূপান্তর বা অবসায়নের প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে।

‎সর্বশেষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের আদেশে সেই সীমাবদ্ধতাও দূর হয়েছে। ফলে এখন সব মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট ইউনিটহোল্ডারদের ভোটের মাধ্যমে। উপস্থিত ভোটদানকারী ইউনিটহোল্ডারদের কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ যে সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দেবেন, বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে সেই সিদ্ধান্তই কার্যকর হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2023 ajkerpujibazar.com
Design & Developed by BD IT HOST