বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

দুই বছর ধরে জব্দ থাকা কিছু বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবে শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ ফিরিয়ে দিচ্ছে বিএসইসি

দুই বছর ধরে জব্দ থাকা কিছু বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবে শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ ফিরিয়ে দিচ্ছে বিএসইসি

আজকের পুঁজিবাজার:পুঁজিবাজারে  বছর ধরে জব্দ থাকা কিছু বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবে শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ ফিরিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসিদুই)। এসব হিসাবে নতুন করে টাকা জমা, শেয়ার কেনাবেচা এবং মার্জিন সুবিধা সমন্বয় করা যাবে। তবে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকছে না। সংশ্লিষ্ট অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিএসইসির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশনের মুখপাত্র আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বিও হিসাবের লেনদেনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। তবে এসব হিসাব থেকে অন্য কোনো হিসাবে শেয়ার স্থানান্তর, অর্থ উত্তোলন বা ফান্ড ট্রান্সফার করা যাবে না। শুধু সংশ্লিষ্ট হিসাবে কোনো মার্জিন ঋণ থাকলে তা সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে এসব বিও হিসাব জব্দ করা হয়। বিএসইসি নিজ উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নির্দেশনা ও আদালতের আদেশের ভিত্তিতে এসব হিসাব জব্দ করে।
বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৬১৭টি বিও হিসাব জব্দ করা হয়েছিল। এসব হিসাবের মধ্যে উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবও রয়েছে। জব্দ হওয়া হিসাবের প্রায় অর্ধেক শেয়ার কারসাজির অভিযোগে বিএসইসি জব্দ করেছিল। এসব হিসাবের কয়েকটির বিরুদ্ধে কারসাজির ঘটনায় বড় অঙ্কের জরিমানাও করা হয়। বাকি হিসাবগুলো আদালত ও বিএফআইইউর নির্দেশে জব্দ করা হয়েছিল।

এদিকে পুঁজিবাজারের আলোচিত বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরু গত ২৭ অক্টোবর নিজের, পরিবারের সদস্যদের এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে থাকা বিও ও ব্যাংক হিসাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন।
বিএসইসির কাছে দেওয়া ওই আবেদনে বলা হয়েছে, হিরু, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব বিএফআইইউর নির্দেশে জব্দ রয়েছে। এ তালিকায় কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাতবর, কনিকা আফরোজ, আলেয়া বেগম, মোহাম্মদ বাশের, সাজেদ মাতবর, কাজী ফরিদ হাসান ও কাজী ফুয়াদ হাসানের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া মনোয়ার্ক হোল্ডিংস, মনোয়ার্ক মার্ট, ইশাল কমিউনিকেশন, মনোয়ার্ক এক্সপ্রেস, মনোয়ার্ক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস, মনোয়ার্ক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, মনোয়ার্ক লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ, মনোয়ার্ক ফুড, মনোয়ার্ক ইলেকট্রনিকস, মনোয়ার্ক স্পেস এক্সপ্লোরেশন, লাভা ইলেকট্রোডস ইন্ডাস্ট্রিজ ও দেশ আইডিয়াল ট্রাস্ট কো-অপারেটিভের ব্যাংক হিসাবও জব্দ রয়েছে।
আবেদনে হিরু উল্লেখ করেন, ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক দায় পরিশোধ, নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় লেনদেন করতে সমস্যায় পড়ছে। আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার অঙ্গীকার করে তিনি এসব হিসাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

?>
© All rights reserved © 2023 ajkerpujibazar.com
Design & Developed by BD IT HOST