শনিবার, ১৫ Jun ২০২৪, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন

পুঁজিবাজারে সুফল পেতে শুরু করেছে

পুঁজিবাজারে সুফল পেতে শুরু করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশেরপুঁজি বাজারে সুফল পেতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে, বাজারের মন্দাবস্থা কাটতে শুরু করেছে। বড় বড় বিনিয়োগকারীরা বাজারে বিনিয়োগ করেছেন। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজারে।

বিনিয়োগকারীরা জানান, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী রয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তারা এখন বাজারে অংশগ্রহণ করছেন। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাজারে আসতে শুরু করেছে। এসব নতুন নতুন বিনিয়োগ বাজারকে গতিশীল করে তুলেছে। দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ(ডিএসই) এর লেনদেন(টার্নওভার), সূচক ও বাজার মূলধন সবই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ছিল সদ্যবিদায়ী সপ্তাহে (২৮ মে থেকে ০১ জুন)।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের অর্থ সম্পাদক মো. সাজ্জাদুর রহমান আজকের পুঁজিবাজারকে  বলেন, ‘নতুন নতুন ফান্ড বাজারে আসছে। দীর্ঘদিন ফান্ডগুলো বাজারের সাইড লাইনে ছিল। এখন তারা বাজারে অংশগ্রহণে সক্রিয় হয়েছে। ফলে বাজার গতিশীল হয়েছে।’

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে। শুধু যে টার্নওভার বেড়েছে তাই নয়, বেড়েছে সব ধরনের মূল্যসূচক ও বাজার মূলধন।

ডিএসই সূ্ত্রে আরো জানা গেছে, গত সপ্তাহে(২১ মে থেকে ২৫ মে) মোট লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছে ৫ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে মোট লেনদেন বেড়েছে ২০ দশমিক ৪১ শতাংশ। ডিএসই’র প্রধান সূচক(ডিএসইএক্স) বিদায়ী সপ্তাহে এসে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৫৫ পয়েন্ট। গত সপ্তাহে যা ছিলো ৬ হাজার ৩২৫ পয়েন্ট। এক্ষেত্রে সূচক বেড়েছে ৩০ পয়েন্ট। ডিএসই৩০ সূচক গত সপ্তাহের তুলনায় বিদায়ী সপ্তাহে বেড়েছে ২ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক (ডিএসইএস) বেড়েছে ৯ পয়েন্ট। গত সপ্তাহে ডিএসইএস ছিলো ১ হাজার ৩৭০ পয়েন্ট। আর বিদায়ী সপ্তাহে এসে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৯ পয়েন্ট। এদিকে ডিএসইতে বাজার মূলধনও সামান্য বেড়েছে। গত সপ্তাহে বাজার মূলধন ছিলো ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৫৯ কোটি ৯৬ লাখ ১ হাজার ৬৪৭ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহে বাজার মূলধন হয়েছে ৭ লাখ ৭৪ হাজার ২৮১ কোটি ২৬ লাখ ৪৪ হাজার ৪৮০ টাকা। এক্ষেত্রে বাজার মূলধন বেড়েছে ০ দশমিক ২২ শতাংশ। আর ডিএসইতে মোট ৪০২টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে বিদায়ী সপ্তাহে। এরমধ্যে দর বেড়েছে ১০৮টির, কমেছে ৮১টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ২০৩টির। এবং ১০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশগ্রহণ করেনি।

এদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় সদ্য বিদায়ী সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে(সিএসই) মোট লেনদেন কমেছে। গত সপ্তাহে সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৯৫ কোটি ৬৫ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৬ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহে মোট লেনদেনে হয়েছে ৮১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৬৮ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে মোট লেনদেন কমেছে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫৮ টাকা। অর্থাৎ ১৪ শতাংশ মোট লেনদেন কমেছে। সিএসইতে একটি সূচক ছাড়া সব সূচক বেড়েছে বিদায়ী সপ্তাহে। গত সপ্তাহের তুলনায় বিদায়ী সপ্তাহে সূচক সিএএসপিআই ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়েছে, সিএসসিএক্স বেড়েছে ০ দশমিক ৫১ শতাংশ, সিএসই৫০ বেড়েছে ০ দশমিক ১৬ শতাংশ, সিএসআই বেড়েছে ০ দশমিক ০৬ শতাংশ, সিএসইএসএমইএক্স বেড়েছে ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এবং সিএই৩০ সূচক কমেছে ০ দশমিক ২৮ শতাংশ। বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইতে মোট ৩৩৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এরমধ্যে দর বেড়েছে ১০০টির। কমেছে ৭১টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬৫টির। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন(বিএসইসি) এর নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম ঢাকা বিজনেসকে বলেন, ‘বাজারে যেন নতুন নতুন বিনিয়োগ আসে সেজন্য আমরা পলিসি সাপোর্ট দিচ্ছি। ইতোমধ্যে যার প্রতিফলন বাজারে দেখা যাচ্ছে। বাজারের উন্নয়নে কমিশন সবসময় সজাগ থাকে।’

ডিএসই’র ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার ঢাকা বিজনেসকে বলেন, শেয়ারবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থা ফিরেছে। যার প্রতিফলন বাজারে দেখা যাচ্ছে। নতুন নতুন বিনিয়োগ বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে এবারের বাজেটে আমাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি। আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো সরকার মেনে নেয়নি। তারপরেও বাজার ভালো আছে

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2023 ajkerpujibazar.com
Design & Developed by BD IT HOST