আজকের পুঁজিবাজার:পুঁজিবাজারে ব্রোকারেজ হাউসের কার্যক্রমে ঝুঁকির ইঙ্গিত পেলেই আগাম নোটিশ ছাড়াই আকস্মিক পরিদর্শন (স্পট ইন্সপেকশন) করবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ জন্য বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী যৌথ প্যানেল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ঝুঁকির ভিত্তিতে এই প্যানেল থেকে তিন সদস্যের পরিদর্শন দল গঠন করা হবে। কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই ওই দল সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসে গিয়ে পরিদর্শন করবে। গ্রাহকের অর্থের ঘাটতি, সিকিউরিটিজের হিসাবে গরমিল, মূলধনসংক্রান্ত সমস্যা এবং আর্থিক ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের ঝুঁকি দেখা দিলে এ ধরনের পরিদর্শন করা হবে।
বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের (এমআইএডি) প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, ‘প্রয়োজন হলে স্পট ইন্সপেকশন করা হবে। যদিও এটি নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ নয়। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল লক্ষ্য।’
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, স্পট ইন্সপেকশনের জন্য আট সদস্যের একটি প্যানেল গঠন করা হবে। এতে বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই ও সিডিবিএলের দুজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। এই প্যানেল থেকে ঝুঁকির ধরন বিবেচনায় তিন সদস্যের পরিদর্শন দল গঠন করা হবে। দল গঠন ও পরিদর্শনের আদেশ জারির দায়িত্ব থাকবে বিএসইসির এমআইএডির কমিশনারের ওপর। বর্তমানে এ দায়িত্বে রয়েছেন কমিশনার মো. নাফিজ আল তারিক।
Space for ads
নিয়মিত পরিদর্শনের ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্রোকারেজ হাউস আগে থেকেই পরিদর্শনের সময়সূচি জানতে পারে। এতে হিসাবের ঘাটতি সাময়িকভাবে পূরণ, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত কিংবা অনিয়ম আড়াল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কাস্টমার কনসলিডেটেড অ্যাকাউন্টে (সিসিএ) ঘাটতি, সিকিউরিটিজের হিসাবের অমিল বা মূলধনসংক্রান্ত সমস্যা থাকলে আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করার ঝুঁকি থাকে।
এ কারণে ঝুঁকি শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত পরিদর্শনের মাধ্যমে ব্রোকারেজ হাউসের প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করতে চায় বিএসইসি। নতুন ব্যবস্থায় পরিদর্শনের আগে প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হবে না।
স্পট ইন্সপেকশনে পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এগুলো হলো—বিনিয়োগকারীদের সিসিএতে অর্থের ঘাটতি আছে কি না, সংরক্ষিত নথির সঙ্গে প্রকৃত সিকিউরিটিজের হিসাবের মিল আছে কি না, প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার নিরাপত্তা, ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততা (আরবিসিএ)–সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়মিত দাখিল করা হচ্ছে কি না এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাক অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে কি না।
ব্যাক অফিস সফটওয়্যারের মাধ্যমে লেনদেনের তথ্য পরিবর্তন করা সম্ভব কি না, সেটিও যাচাই করবে পরিদর্শন দল।
পুঁজিবাজারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় ব্রোকারেজ হাউসের তদারকি নিয়মিত পরিদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ঝুঁকি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে অনিয়ম ধরার সুযোগ বাড়বে। এতে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও সিকিউরিটিজের সুরক্ষা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি বাজারে শৃঙ্খলা ও আস্থা বাড়তে পারে।
www.ajkerpujibazar.com
কপিরাইট © আজকের পুঁজিবাজার ২০২৩-২০২৫ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত